যে সম্প্রদায়ের লোকেরা বউদের ঠেলে দেয় পতিতাবৃত্তিতে!

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৭-০১-০৯ ০০:৩২:০৬

৭০ বছর হয়েছে ভারত স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু এখনও দেশটির নারীরা পাননি তাদের প্রাপ্য সম্মান। নারীর অবমাননার অজস্র ঘটনা প্রত্যেক দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাচ্ছে। কিন্তু দিল্লির নজফগড়ের পরনা সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ভয়াবহ রীতি প্রচলিত রয়েছে, তা কল্পনার অতীত। কারণ এখানে বাড়ির বউদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করানোই রীতি। এবং এই অসম্মানজনক পেশায় নারীদের ঠেলে দেন তাঁদের শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই।

যেভাবে এলো এই রীতি:
পরনা সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের বাড়িতে কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলে বাড়ির লোকজন খুশিই হন। কারণ তারা জানেন, একটু বড় হয়ে ওঠার পরে ‘পন্য’ হিসেবে এই মেয়েই খুলে দেবে তাদের উপার্জনের রাস্তা। পরনাদের মধ্যে ছোটবেলায় মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর রীতি নেই। বরং সাত-আট বছর বয়স হলেই বাবা-মা মেয়েকে পাঠিয়ে দেন কোন দালালের কাছে। সেই দালালের কাজ হয়, পতিতাবৃত্তিতে মেয়েদের প্রশিক্ষিত করা।

১২ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য বিয়েটাও এক রকম বাজার। কারণ মেয়েকে ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মেয়ের বাবা-মার হাতে তুলে দেন মোটা অঙ্কের টাকা। যারা যত বেশি দর হাঁকতে পারেন, তাদের ঘরেই যায় মেয়ে।

বিয়ের কয়েক দিন পর থেকেই  বাড়ির বউয়ের জন্য ‘কাস্টমার’ খোঁজা শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে ‘দালাল’-এর কাজ করেন মেয়েটির স্বামী। প্রত্যেক রাতে নতুন নতুন ক্রেতা আসে পতিতাবৃত্তিতে নামা নতুন বউয়ের কাছে। মেয়েটির পারিশ্রমিক ওঠে তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের হাতে।

পরনাদের মধ্যে বহু কাল থেকে এই রীতি চলে আসছে। দারিদ্রপীড়িত পরনাদের সংসার চলে মূলত পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে বাড়ির বউয়ের উপার্জিত অর্থেই। মেয়েদের অভিভাবকরাও মেনে নিয়েছেন এই প্রথা। আর পরনা সম্প্রদায়ের মেয়েরা? তাদের মধ্যে এই রীতি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে, কিন্তু প্রতিবাদের সাহস নেই। কারণ পতিতাবৃত্তিতে রাজি না হলে শ্বশুরবাড়িতে মেয়েদের উপর চলে অকথ্য অত্যাচার, এমনকী সময় বিশেষে হত্যাও করা হয়।

কোন মানবাধিকার সংগঠন কিংবা নারীবাদী সংগঠন পরনা নারীদের অধিকার রক্ষায় কখনও সরব হয়নি। কোন সরকারও তাদের দিকে বাড়িয়ে দেয়নি সাহায্যের হাত। সত্যি বলতে কী, পরনাদের মধ্যে প্রচলিত এই ভয়াবহ প্রথার কথা সম্প্রদায়ের বাইরে খুব একটা বেশি কেউ জানে না। তবে আশার কথা এই যে, সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে একটু একটু করে প্রকাশ পাচ্ছে এই আদিম প্রথার খবর। এতে পরনা নারীদের দুর্দশা মোচনে সরকার উদ্যোগী হবে বলে আশা করা যায়।

সূত্র: এবেলা

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : ৬৮২ বার

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে চাকুরির সুযোগ
  •   যে গ্রামে পর্যাপ্ত মদ আছে, কিন্তু খাওয়ার পানি নেই!
  •   সাংসদকে চড় মারলেন ওবায়দুল কাদের!
  •   এবার নাস্তিকদের বিষয়ে যা বললেন আল্লামা শফি
  •   স্কুলছাত্রকে ২০ দিন পর ফেসবুক বান্ধবীর বাসা থেকে উদ্ধার
  •   আপেলে হবে মোবাইল চার্জ!(ভিডিও)
  •   ৪ দিনেই ছাত্রলীগ সভাপতির ২৫ হাজার বই বিক্রি
  •   নেহেরু নপুংসক ছিলেন, দাবি মাউন্টব্যাটনের নাতির
  •   মাতাল নারীর 'সম্মতিতে সেক্স' ধর্ষণের সামিল
  •   স্ত্রী হত্যায় ভুল করে বসের সাহায্য চেয়ে স্বামী আটক
  •   যে ব্যাংকে টাকার বদলে পাওয়া যায় কুমির
  •   যে কারণে পাখিদের দাঁত থাকে না, জানাচ্ছে গবেষণা
  •   সংক্রমণের এক সপ্তাহের মধ্যেই শনাক্ত হবে এইচআইভি!
  •   দুবাইয়ের উড়ন্ত গাড়ি
  •   মাকড়শা ভর্তি আলমারিতে ২ বছর আটক কিশোরী
  • সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক খবর

  •   নেহেরু নপুংসক ছিলেন, দাবি মাউন্টব্যাটনের নাতির
  •   মাতাল নারীর 'সম্মতিতে সেক্স' ধর্ষণের সামিল
  •   স্ত্রী হত্যায় ভুল করে বসের সাহায্য চেয়ে স্বামী আটক
  •   মাকড়শা ভর্তি আলমারিতে ২ বছর আটক কিশোরী
  •   ভ্রমণ খরচ : ট্রাম্পের এক মাস, ওবামার ১২ মাস
  •   এবার 'ক্ষুদ্রাকৃতির ট্রাম্প'কে নিয়ে মাতলো ইন্টারনেট
  •   বিষ ছিটিয়ে কিমের ভাইকে হত্যা, সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন নারী!
  •   সংক্রমণের এক সপ্তাহের মধ্যেই শনাক্ত হবে এইচআইভি!
  •   সেরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের তালিকায় ১২তম ওবামা
  •   হিটলারের ‘ধ্বংসাত্মক টেলিফোন’ নিলামে উঠছে
  •   পাকিস্তানে সেনা অভিযানে শতাধিক জঙ্গি নিহত
  •   যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রবেশে ট্রাম্পের নতুন আদেশ জারি
  •   কেমন আছেন মুঘল সম্রাটদের বংশধররা?
  •   মুসলিম নিষিদ্ধে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ
  •   পাকিস্তানে মাজারে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২