ব্যর্থতা মানে হেরে যাওয়া নয়, সফলতার পথে আরো এক পা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৭-০৮-১১ ২২:৪৩:২৪

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, সমুদ্রের জীবনে যেমন জোয়ার-ভাটা আছে, মানুষের জীবনেও আছে। মানুষের সঙ্গে এই জায়গাতেই সমুদ্রের মিল।এ কথাটি আমার হৃদয়ে দাগ কেটেছে, শান্ত সমুদ্রে হঠাৎ জোয়ার ভাটার আগমন অশান্ত করে তুলে সমুদ্রের বুককে। মানবজীবন বড়ই বিচিত্র, জীবন বহমান নদীতে এই বুঝি উত্তাল ঢেউ শুরু হবে, কিন্তুু সামান্য পূর্বে কতই না মধুর ছিল তার বহমান গতিধারা!

স্টিভ জবসের একটা কথা বার বার আমার অশান্ত মনে শান্তির পথ বাতলে দেয়, জীবন মাঝে মধ্যে তোমাকে ইট পাটকেল মারবে, বিশ্বাস হারিও না। আপনারা সবাই জানেন এক স্টিভ জবস কিভাবে জীবনের প্রতিটি পথে পথে নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে সাফল্যের চূড়ায় আরোহন করেছেন। স্টিব জবস হয়ত নিজের জীবন কে উপলব্দি করেছিলেন।

প্রাচীন উপনিষদে বলা আছে, "আত্মানং বিদ্ধি" অর্থাৎ নিজেকে জানো। নিজেকে ভাল করে জানাটাই আসল কথা।

রবীন্দ্রনাথও তার কবিতায় বলেছেন, 'আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না,
এই জানার সঙ্গে সঙ্গে তোমায় চেনা।'

কিন্তুু হায়! আমরা নিজেকে জানার ক্ষুদ্রতম চেষ্টাটুকুও করি না। পৃথিবীতে যারা সাফ্যল্যের স্বাক্ষর রেখে গেছেন তারা সবাই নিজের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। মানুষের জীবনে এ কথা সত্য যে, আমাদের ভিতরে কি আছে সেটাই প্রধান, আমাদের ভিতরের যে জিনিসটি আমাদের উপরে উঠতে সাহায্য করে তা হল আমাদের মানসিকতা।

"একজন লোক মেলায় লাল-নীল-সবুজ-হলুদ ইত্যাদি অনেক রংয়ের বেলুন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কখনও কখনও তার বিক্রি কমে গেলে সে হিলিয়াম গ্যাসে ভর্তি একটি বেলুন আকাশে উড়িয়ে দিত। বেলুনটিকে আকাশে উড়ে যেতে দেখলে উৎসাহী বাচ্চারা বেলুনওয়ালার কাছে ভিড় করে তার বিক্রি বাড়িয়ে দিত। সারাদিন এই পদ্ধতিতে বেলুনওয়ালা বেলুন বিক্রি করত। একদিন পিছন থেকে বেলুনওয়ালার জামায় একটা বাচ্চা ছেলে টান দিতে থাকল, তারপর ছেলেটি জিজ্ঞেস করল, 'কালো রংয়ের বেলুন কি আকাশে উড়বে?' বালকটির অত্যধিক আগ্রহ লক্ষ্য করে লোকটি তাকে আশ্বস্ত করে বলল, ভাই রংয়ের জন্য বেলুন আকাশে ওড়ে না, ভেতরের গ্যাস বেলুনকে ওড়ায়।"

আমরা সর্বদাই কেবল বাহিরের চাকচিক্যকে প্রাধান্য দেই, যা আমাদের কে গন্তব্যে পৌছতে বিলম্ব ঘটায়। আমরা মন প্রাণে চেষ্টা করি না বলেই ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে নীড়ে ফিরি!

ডেভিড শেংক নামের একজন লেখক আমেরিকায় একটি বই বের করেছেন বহুু গবেষণা করে "দ্য জিনিয়াস ইন অল অব আস" । তিনি বলেছেন আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আইনস্টাইন, পিকাসো, বেটোফেনের জিন আছে। আমরা সবাই জিনিয়াস, কিন্তু প্রকৃত জিনিয়াসরা একটা বিষয়ে এত মনযোগ দেন, এত সাধনা করেন, এত একান্ত চেষ্টা করেন যে, তার ওই জিনিসটা সক্রিয় হয়ে ওঠে।"

আর আমরা জীবন বহমান নদীতে একবার স্রোত আসলে হাল ছেড়ে দেই! কিন্তুু তখন শক্ত নাবিকের ভূমিকা পালন করার কথা ছিল।মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়,আর সেই স্বপ্ন তখনই সফল হয়,যখন সে মনে প্রাণে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পিচঢালা পথে অগ্রসর হয়। কেউ একদিনে সফল হন নাই, কাদামাটির পথ পাড়ি দিতে দিতে একদিন সফলতার মহাসড়কে নতুন যাত্রা শুরু করেন।

আমি আমার গুরুজনের কাছ থেকে একটা জিনিস শিখেছি, আর সেটা হচ্ছে তোমার মন যা চাইবে তুমি সেই কাজটি মনে প্রাণে চালিয়ে যাও, একদিন সফলতা তোমার হাতে ধরা দিবেই।আমি এই কথাটি আজও মেনে চলার চেষ্টা করি। আর এভাবেই একদিন সফলতার ফেরীওয়ালা হতে চাই।

মফিজুর রহমান মফি
শিক্ষানবিশ আইনজীবী, সিলেট জজ কোর্ট।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : ৩৫৩ বার

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   বর্ষাকালের রোগবালাই এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা
  •   বালাগঞ্জে আয়েশা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের বৃত্তি প্রদান
  •   বালাগঞ্জের মোরারবাজার বাজার পরিচালনা কমিটি গঠন
  •   মৌলভীবাজারে ব্যাংকের ভেতর থেকে ছিনতাইকারী আটক
  •   প্রেমিকের নামে লিফলেট ছাপিয়ে কীসের অপেক্ষায় তরুণী!
  •   বহুরূপী দাউদ! পাকিস্তানে তার ২১টি ছদ্মনাম! করাচিতে তিন ঠিকানা!
  •   ৪০০ পদে লোক নেবে সেনাবাহিনী, আবেদন করতে পারবেন আপনিও
  •   বাংলাদেশের মর্জিনা সৌদিতে পান-সিগারেটের দোকানি
  •   অতিরিক্ত আমিষ খেয়ে তরুণীর মৃত্যু
  •   তিন খানের সেরা কে?
  •   স্কার্ট পরা যুবতীদের দেখে সাহায্যে রাজি ট্রাম্প
  •   কিমকে হত্যা করে সমুদ্রে ফেলে দেয়া হয়!
  •   অ‍্যাপ দিয়ে ছবি তুলুন প্রিয় তারকার সঙ্গে
  •   মাদক সেবনের দায়ে ৩ স্কুলছাত্রীকে বহিষ্কার
  •   কারিনার প্রেমে মজেছিলেন ভারতের বিখ্যাত যে ক্রিকেটার!