হস্তরেখা বা কোষ্ঠী পাথর নয়, ভাগ্য বলে দেবে 'এক কাপ চা'

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৭-০১-০৯ ০০:২৮:৩৪

সভ্যতার প্রথমলগ্ন থেকেই মানুষ জানতে চেয়েছে আগামীকে। ভবিষ্যৎ জানার জন্য মানুষ যা করেছে, তার হিসাব নিতে বসলে মাথা খারাপ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সুদূর গ্রহতারা থেকে শুরু করে হাতের রেখা, কোনও কিছুকেই বাদ দেয়নি মানুষ। জ্যোতিষ, করকোষ্ঠী, ট্যারো কার্ডস ইত্যাদি তো রয়েছেই, তার উপরে যুগ যুগ ধরে এমন কিছু পদ্ধতি মানুষ ভাগ্য জানার জন্যে ব্যবহার করে এসেছে, যার কার্যকারণ বের করাটাই দুরূহ।

এমনই এক পদ্ধতি হল ‘ট্যাসিওগ্রাফি’। আপাতদৃষ্টিতে পদ্ধতিটি নেহাতই সরল। কিন্তু এর ব্যবহার করাটা কঠিন। খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায়, ‘ট্যাসিওগ্রাফি’ শব্দটির মধ্যে রয়েছে আরবি ‘ট্যাসা’ শব্দটি, যার অর্থ হল ‘চা’। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্রিক ‘গ্রাফ’ শব্দটি, যার অর্থ ‘লিখন’। সেদিক থেকে ভাবলে, ট্যাসিওগ্রাফি এর অর্থ দাঁড়ায়— ‘চায়ের লিখন’। ট্যাসিওগ্রাফার কোনও ব্যক্তিকে এক কাপ চা পান করতে বলেন। চা পান করার পরে, চায়ের কাপে চা-পাতা পড়ে থাকে। সেই পড়ে থাকা চা-পাতার প্যাটার্ন দেখেই নাকি বলে দেওয়া হয় সেই ব্যাক্তির ভাগ্য।

আনুমানিক সপ্তদশ শতক থেকে ইউরোপে ট্যাসিওগ্রাফি এক জনপ্রিয় ভবিষ্যকথন পদ্ধতি হিসেবে আবির্ভূত হয়। কেবল চা নয়, কফি বা ওয়াইন সেডিমেন্টকে ঘিরেও শুরু হয় ট্যাসিওগ্রাফি। তবে চায়ের জনপ্রিয়তাই ছিল সর্বাধিক। কারণ ওই সময়ে ইউরোপে চায়ের জনপ্রিয়তা ক্রমবর্ধমান। আর চিন থেকে আগত এই পানীয়কে ঘিরে ইউরোপীয়দের কৌতূহলও তখন তুঙ্গে।

পরে থাকা চা-পাতার প্যাটার্ন থেকে ভাগ্য জানার পদ্ধতিকে সুগম করার জন্য তৈরি হতে শুরু করে বিচিত্রদর্শন সব কাপ। কোনওটির ভিতরে জ্যোতিষ-চিহ্ন, কোনওটিতে রাশিচক্র আবার কেনোটিতে তাসের ছবি ছাপা হতে শুরু করে। তৈরি হতে থাকে ট্যাসিওগ্রাফি-র নিজস্ব চিহ্ন সম্বলিত কাপও।

এই চিহ্নের ব্যাপারটা অবশ্যই কিছুটা গোলমেলে। পড়ে থাকা চা-পাতার প্যাটার্ন কখন সাপের মতো, কখন পাহাড়ের মতো, কখন বা তার মধ্যে দেখা যায় অন্য কোনও জন্তুর ছায়া। এর প্রত্যেকটিই এক একটি ট্যাসিওগ্রাফি-প্রতীক। এদের প্রত্যেকেরই মানে আলাদা। সাধারণ মানুষের পক্ষে একে বোঝা দুরূহ। কিন্তু মজার ব্যাপার এই যে, সেই ১৭ শতক থেকে আজ, এই দীর্ঘ কালপর্বে ট্যাসিওগ্রাফি নিয়ে পশ্চিমের কৌতূহল এক ইঞ্চিও কমেনি। এই মুহূর্তে ইন্টারনেটেও ট্যাসিওগ্রাফি-র রমরমা যথেষ্ট। ট্যারো বা সাধারণ জ্যোতিষের চাইতে নাকি অনেক বেশি কার্যকর এই চা-পাতার পাঠ।

কিন্তু আরও মজার ব্যাপার এই, ট্যাসিওগ্রাফি-কে কিন্তু একেবারেই পাত্তা দেননি হ্যারি পটার-সিরিজের রচয়িতা জে কে রাওলিং। গোটা সিরিজ জুড়ে তিনি মজা করে গিয়েছেন ট্যাসিওগ্রাফি নিয়ে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : ২৯২ বার

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   ‘শাবি প্রশাসনে গতি বেড়েছে’
  •   জাপানে ল’এশিয়া কনফারেন্স যোগ দিলেন গোয়াইনঘাটের অ্যাড. সেলিম
  •   সিলেট থেকে টেকনাফ অভিমুখে রোডমার্চ বৃহস্পতিবার
  •   পড়ালেখা করলে রোমিওদের মতো ঘুরতে হবে না: গোয়াইনঘাটে এসপি
  •   গোয়াইনঘাটে ভারতীয় মদসহ আটক ১
  •   সিলেট ইয়াং স্টারের ঈদ পূর্ণমিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  •   তাহিরপুরে কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
  •   সিলেটে ছাত্রদল নেতা তোফায়েলসহ বন্দিদের মুক্তি দাবিতে বিক্ষোভ
  •   ট্রাম্পের কাছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কিছু প্রত্যাশা করা যায় না: শেখ হাসিনা
  •   রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভাষণে যা বললেন সু চি
  •   রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত
  •   জন্মদিনে সালমান শাহকে স্মরণ
  •   বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ দোয়ারাবাজার উপজেলা কমিটি অনুমোদন
  •   মিয়ানমারে গণহত্যার প্রতিবাদে সিলেটের মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
  •   উখিয়া শরণার্থী ক্যাম্পে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ টিম
  • সাম্প্রতিক ফিচার খবর

  •   ভাটির পুরুষ || শাকুর মজিদ
  •   এখনকার তরুণেরা প্রেম করছেন কম!
  •   বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়: একজন নিভৃতচারী কথাশিল্পী
  •   সিলেট ইসকন মন্দিরে একদিন...
  •   'মুসলমান হিসেবে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না'
  •   শেখ হাসিনা, নোবেল শান্তি পুরস্কার ও পরিকল্পিত অপপ্রচার!
  •   ভা‌লো থেকো নী‌তির রাজনী‌তিক সৈয়দ মহসীন অালী
  •   ডেল কার্নেগির স্মরণীয় ৭টি উক্তি
  •   রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কোন পথে?
  •   আমাদের সেরা ইউনিভার্সিটিগুলোর শিক্ষক-কর্মকর্তারা কি করে?
  •   সামাজিক বিয়েতে বাণিজ্যের হিসেব, প্রেমের বিয়ে হৃদয় সুখে ভরপুর
  •   অং সান সু চিকে লেখা খোলা চিঠি
  •   রোহিঙ্গা সমস্যার পরিণতি এবং আমাদের করণীয়
  •   ভগবান রাজনীশের যত কাণ্ড!
  •   পীর বা বাবার কোনও প্রয়োজন আছে?